তেরখাদায় ওয়াব্দার ড্রেন বেদখল, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ।চরম দুর্ভোগে কাটছে শতাধিক পানিবন্ধী মানুষের জীবন। (ভিডিও সহ।) - Modern Bangla24

এসো গড়ি প্রযুক্তিময় ডিজিটাল বাংলাদেশ।

Breaking

Breaking News

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

তেরখাদায় ওয়াব্দার ড্রেন বেদখল, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ।চরম দুর্ভোগে কাটছে শতাধিক পানিবন্ধী মানুষের জীবন। (ভিডিও সহ।)


মোল্যা সেলিম আহম্মেদ, তেরখাদা, খুলনা। 
তেরখাদা উপজেলার আটলিয়া (পশ্চিমপার) গ্রামে সামান্য কয়েকজনের স্বার্থান্বেষী ব্যক্তির কারণে অতিবৃষ্টি তে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন প্রায় শতাধিক পরিবার। চরম দুর্ভোগে কাটছে এ সকল পানিবন্ধী মানুষের জীবন।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা যায়, উপজেলার আটলিয়া(পশ্চিমপার) গ্রামে কালাম চৌহদ্দীর বাড়ি হতে রামমাঝি হাজরার খাল পর্যন্ত প্রায় ১.৫ কিঃমিঃ এলাকায় ওয়াব্দার ড্রেন
সরকারী খাস জমি হওয়া সত্তেও এক শ্রেণীর কুপ্রকৃতির লোক সেগুলো দখল করে পানি চলাচলের ব্যবস্থা না করে চারপাশে উচু বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরী করেছে। যার কারণে পানি বন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যাচ্ছে চলাচলের পথঘাট, বসতবাড়ি, ধান, পাট, সবজি ক্ষেত ইত্যাদি। স্থানীয় লোকজন বাড়ি থেকে ওয়াব্দার রাস্তায় আসার জন্য বিভিন্ন নিচু পাড়ের উপর বাঁশের সাকো তৈরী করে তার উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এসকল পাড়ের উপরে প্রায় ৩-৪ ফুট পানি জমে গেছে। স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোন যানবাহন নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েক দিনের বর্ষায় বিভিন্ন বাড়ির উঠান, রান্না ঘর, গোয়াল ঘর তলিয়ে গেছে পানির নিচে। শিশু কিশোরদের উঠানে জাল পেতে মাছ ও ধরতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানির অভাব ও সাপ কোপের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৬ জুলাই পর্যন্ত অনেকের থাকার ঘরে ও প্রায় পানি ছুই ছুই করছে। তারা সেখানে ইট বা টিনের চুলা তৈরী করে সেখানে রান্নার কাজ করছেন। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এলাকার পানিবন্ধী মানুষ। সূত্র মতে জানা যায়, ওয়াব্দার ড্রেন বেদখল হয়ে যাওয়ায় তারা পানি চলাচলের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় এই পানি রোদে শুকানো ছাড়া অন্য কোন ব্যবস্থা নেই। আর এই পানি রোদে শুকাতে কত দিন লাগবে সেটা অনিশ্চিত। তারপর বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এখানকার অনেক মানুষকে গৃহ ছাড়তে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাবিবুর, বাবু, বাবলু, সেলিম, জাহিদুল, জাহিদ সহ আরো অনেকে জানান, একদিন এখান দিয়ে মানুষ ভ্যান সাইকেলে করে যেতে পারতো। ওয়াব্দার এই ড্রেন উন্মুক্ত ছিল। পানি চলাচল করতে পারতো। সর্ব সাধারণ এখান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ ও নিজস্ব চাহিদা মেটাতো। ড্রেন দিয়ে পানি চলে যেতো রামমাঝি হাজরার খাল হয়ে নদীতে। ফলে এসব এলাকায় কোন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো না। ফলতো নানা প্রকার সবজি জাতীয় ফসল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর যাবৎ কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ওয়াব্দার উক্ত ড্রেন দখল করে চারপাশের উচু বাঁধ সৃষ্টি করে মাছ চাষ করছেন। পাড়ের নিচ দিয়ে পানি চলাচলের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে হাজরার খাল দিয়ে নদীতে পানি যেতে পারছে না। এখন তারা যদি পুকুরের এক পাশে ওয়াব্দার পাশ দিয়ে ড্রেন এর জন্য কিছু জায়গা ছেড়ে দেন বা পাড়ের নিচে পানি অপসারনের জন্য বড় পাইপ বা কালভার্ট বসান তাহলে পানিবন্ধী মানুষ জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবেন। ফলবে নানা জাতের ফসল। স্কুল পড়–য়া ছেলে মেয়েরা নির্বিঘেœ স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্থাণীয় এলাকাবাসীর দাবী অবৈধভাবে ওয়াব্দা দখলকারীদের উচ্ছেদ করে ড্রেনটি সর্ব সাধারনের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। এবং পানি চলাচলের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করে শত শত মানুষকে পানি বন্ধকতার হাত থেকে রক্ষা করা হোক।




মোল্যা সেলিম আহম্মেদ
তেরখাদা, খুলনা।
স্ট্যাফ রিপোর্টার,
Modern Bangla24


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here